অবশেষে সেই বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে

0
170

কুমিল্লা জেলার লালমাইতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী নাতিনকে পটিয়ে বিয়ে করা সেই কথিত নানা সামছুল হককে (৬৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার হরিশ্চরস্থ একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে লালমাই থানা পুলিশ। ওইসময় ওই কিশোরীকেও উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পেরুল গ্রামের ইমান হোসেন ঢাকায় চাকরি করেন। সে কারনে গ্রামে তার মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া ও পরিবারের দেখভাল করার জন্য কেয়ারটেকার রাখেন একই গ্রামের রিক্সা চালক সামছল হককে।

সে সুবাধে ইমান হোসেনের ২য় মেয়ে (১৩) ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মরিউমকে রিক্সায় নিয়মিত স্কুলে আনা নেওয়া করতেন সামছুল হক। একপর্যায়ে রিক্সাচালক ৬৫ বছর বয়সী সামছুল হক কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পেলেন ওই স্কুল ছাত্রীকে। ওই ছাত্রীর মাকে মেয়ে ডেকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই তিনি ওই বাড়ীতে রাত্রীযাপন করতেন।

এ নিয়ে স্থানীয়রা আপত্তি করলে, তিনি প্রাপ্ত বয়স হলে কিশোরী ছাত্রীর সঙ্গে মনির নামে তার নিজ ছেলের বিয়ে দেয়ার কথা বলে প্রচার করেন।

ওই সময় সামছল হক কিশোরীর প্রাথমিক শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও বিয়ের কাবিননামা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও জন্মনিবন্ধনে তার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ০২/০২/২০০২ইং।

কাবিননামায় দেখা যায়, গত ১০ মে কুমিল্লা সিটি কর্পোশেনের ৭নং ওয়ার্ড এর নিকাহ রেজিষ্ট্রার মুজিবুর রহমান সরকারের কার্যালয়ে ৫ লক্ষ টাকা মোহরানায় বই নং ৫৪, পৃষ্ঠা নং ২৮ ও ক্রমিক নং ৪৪০-এ তাদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়। এতে সামছল হকের জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৫৫ইং উল্লেখ রয়েছে।

১৪ মে বিকালে কিশোরীর মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে সামছল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় লালমাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

কিন্তু গত ১০ মে রবিবার ৬০ বছরের সামছুল হক সবাইকে হতবাক করে বছরের ১৩ কিশোরীকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ১১ মে সোমবার পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক ও কিশোরীকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে।

www.mathbariatimes.com

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here