কায়নাত এর জীবন কাহিনী

0
105

ছোট্ট মেয়েটির নাম কায়নাত, ওর সাথে পরিচয়ের কয়েক বছর হলো। নিজের ক্ষুদ্র জীবনে একের পর এক যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে কায়নাত ও তাঁর মা! জন্মের পর থেকে সে একের পর এক রোগে আক্রান্ত হতে থাকে। সে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, কিন্তু যখন কায়নাতের ক্যান্সার ধরা পড়লো তখন থেকেই ওদের মা, মেয়ের পৃথিবীটা নড়বড়ে হয়ে যায়!

তারপর থেকে ছোট্ট এই মেয়েটি একের পর এক কেমোথেরাপি নিয়ে যাচ্ছে। প্রায়শঃই সে মহান আল্লাহ’র সাথে কথা বলে!টেলিফোনে কথা বলতে যেয়ে কায়নাত বলে আমাকে নিওনা আল্লাহ! আমার মায়ের জন্য আমাকে বাঁচিয়ে রেখো।কখনো মায়ের উপর রাগ করে উল্টোটাও বলে!
এত অসুস্থ মেয়েটা মনমত খেতেও পারেনা। কেউ জোর করলে বলে, “আমার পুলিশ আংকেল আছে সবাইকে ধরিয়ে দিবো, আমার সাথে বাড়াবাড়ি করোনা”!
ছোট্ট এই মেয়েটার ভিতরে অদ্ভুত এক শক্তি কাজ করে, মনে হয় নিজের মায়ের কাছ থেকে জন্মসূত্রে পাওয়া। কায়নাতের পৃথিবীতে আসার পর থেকেই ওর মায়ের যুদ্ধ চলছে, নিজের সন্তানকে বাঁচানোর যুদ্ধ! এরকম মায়ের সন্তান একজন যোদ্ধা হবে এটাই স্বাভাবিক।
কায়নাত একদিক থেকে সৌভাগ্যবান কারণ ওর জন্য সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা কিছু চাচ্চু আছেন। এরকম অনেক কায়নাতের খবর কেউই রাখেনা,রাখা উচিত!
কেমোথেরাপি দিয়ে দিয়ে মেয়েটা যখন খুব দুর্বল ঠিক তখনি খাট থেকে পড়ে যেয়ে চোখে ব্যথা পায় সে! একই সময়ে কায়নাতের পুলিশ চাচুর জন্মদিবসও এগিয়ে আসতে থাকে! পুলিশ চাচুর জন্মদিনে কি উপহার দেবে তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে পুলিশ চাচুর একটি ছবি খুঁজে পায়! চোখের রক্ত শুকাতে না শুকাতেই সে পুলিশ আংকেলের ছবি নিজে প্রস্তুত করে ফেলে!
you
জীবনে উপহার কম পাইনি! পার্থিব উপহার অনুপ্রেরণা দিলেও তা জীবনের জন্য কখনোই অপরিহার্য মনে হয়না আমার! কিন্তু এই উপহারকে আমি কোন দাঁড়িপাল্লায় মাপি? এক জীবনে কজন মানুষ এতটা ভালবাসার ছোঁয়া পায়। আবেগী মন বারবার মেয়েটির রোগমুক্তি চায়! কায়নাতকে আমি বলি ” ইউ আর এ্যা বর্ন ফাইটার, এন্ড ইউ উইল কাম ব্যাক এগেইন এন্ড এগেইন”
কায়নাতের মা ফোন করলেই ভয় জেগে উঠে মনে, কিছু হলো নাতো পিচ্চি মামনীর! মহান আল্লাহ এই পৃথিবীর আলোতে ওকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুন- এতটুকুই চাওয়া সকলে কায়নাতকে আপনাদের প্রার্থনায় রাখবেন প্লিজ….

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here